বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা ও যথাযথ ব্যবহার এবং শিশু-কিশোরদের ভাষার প্রতি অনুরাগ ও মনযোগ সৃষ্টির লক্ষে রাজবাড়ীতে শুরু হয়েছে ২ দিনব্যাপী ১০ম বাংলা উৎসব।
দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের বিভিন্ন ইভেন্ট প্রতিযোগিতায় প্রথম থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহন করেছে। বাংলা ভাষার সাহিত্য ও ব্যকরন নিয়ে এ আয়োজন। এরমধ্যে রয়েছে দেয়াল পত্রিকা, অভিধান থেকে শব্দ বের করা, চিত্রাংকন, কুইজ, আবৃত্তি, ছড়া লিখন সহ বিভিন্ন প্রতিযোগীতা। এছাড়া উৎসবে রয়েছে আলোচনা, গুনীজন সংবর্ধনা সহ সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরের দিকে রাজবাড়ী বাংলা একাডেমি উদ্দ্যোগে রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে দুই দিনব্যাপী বাংলা উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলা উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এর আগে উৎসব প্রাঙ্গন থেকে প্রতিযোগী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি ও সুধিজনদের নিয়ে বের করা হয় বর্ণ মিছিল। মিছিলটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উৎসব প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক ডা. ইকবাল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এন এ এম মোমেনুজ্জামান, ক্রীড়াবিদ মঞ্জুরুল আলম দুলাল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিম সফি। সভা শেষে প্রধান অতিথিকে ক্রেস্ট ও পেইন্টিং উপহার দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, চারদিকে মৌলবাদের আস্ফারন দেখতে পাচ্ছি। এটাকে মোকাবেলা করতে সাংস্কৃতিক মাধ্যমকে কাজে লাগাতে হবে। ফলে সংস্কৃতির প্রতিটি অঙ্গকে সক্রিয় করে তোলা প্রয়োজন। সেটা সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি, গান, চিত্রাঙ্কণ ইত্যাদি যাই হোক না কেন। সংস্কৃতির ব্যাপকতা অনেক বড় এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রই সংস্কৃতি। আমাদের ধারনা সংস্কৃতি মানে গান-বাজনা, কিন্তু না। সাংস্কৃতি মানে আমাদের জীবন-যাপন, আচার-ব্যবহার, রীতি-নীতি সমস্ত কিছু। সুতরাং এটাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নাই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। অতিতে ভয়ানক ভাবে সংস্কৃতিকে রাজনৈতিকিকরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেটা মনে করেন না। আমরা মনে করি সংস্কৃতি আমাদের ঐতিহ্য ও শিল্প। সুতরাং সংস্কৃতির নিজস্বতা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন এবং সেক্ষেত্রে সকল সাংস্কৃতিক মনা মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন