রাজবাড়ীর পাইকারী ও খুচরা বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে পেঁয়াজের দাম। প্রতিমন পেঁয়াজ ৩ হাজার ৭০০ থেকে সর্বচ্চো ৪ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যার প্রভাব পড়তে যাচ্ছে খুচরা বাজারে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজবাড়ীর পেঁয়াজ বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
এদিন বাজারে কৃষকরা প্রতিমণ ভাল পেঁয়াজ ৩ হাজার ৭০০ থেকে শুরু করে ৪ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। আর প্রতিমন ছাল পচা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। কৃষকরা বলছেন, মৌসুমের শেষ মুহুর্তে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। এখন তাদের ঘরে তেমন পেঁয়াজ নাই। অপরদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে আমদানি কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজবাড়ী মসলা জাতীয় ফসল পেঁয়াজ আবাদের সমৃদ্ধ একটি জেলা। এ জেলায় সারাদেশের প্রায় ১৬ শতাংশ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় এবং দেশের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থান রাজবাড়ীর। ফলে এ জেলার উৎপাদিত পেঁয়াজ সারাদেশের চাহিদার বৃহৎ একটি অংশ পুরন করে থাকে। জেলার ৫ উপজেলায় কম বেশি পেঁয়াজের আবাদ হলেও কালুখালী, বালিয়াকান্দি ও পাংশায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের আবাদ হয়। এবছর হালি পেঁয়াজ আবাদের মৌসুম এখনও বাঁকী কয়েকমাস, তবে শুরু হয়েছে আগামজাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ। এই পেঁয়াজ বাজারে উঠলে বা বাইরের দেশের পেঁয়াজ আমদানি হলে কমবে পেঁয়াজের বাজার।
পেঁয়াজ চাষী শরিফুল ইসলাম বলেন, এখন আমাদের ঘরে পেঁয়াজ নাই, দাম বাড়ছে। সারাবছর আমরা দাম পাই না। একটু পেঁয়াজের দাম বাড়লে সবার মাথা নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু দাম কম থাকলে কেউ আমাদের খবর নেয় না। এক বিঘা জমিতে আবাদ করতে অনেক খরচ হয়। সে হিসাবে আড়াই হাজার টাকার উপরে সব সময় দাম থাকলে আমাদের জন্য ভাল হয়।
কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আজ বাজারে ৩৭০০ থেকে ৪১০০ টাকা মন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। এরকম দাম সময় থাকলে আমাদের জন্য ভাল হয়। এখন প্রায় কৃষকের পেঁয়াজ শেষ। কিছু কিছু করে এনে বিক্রি করে বাজার সদাই করছে।
ব্যবসায়ী হাফিজুর বলেন, বৃষ্টি এবং কৃষকের ঘরে পেঁয়াজ না থাকায় দাম বেড়েছে। আজ পাইকারী প্রতিমন কিনেছে সর্বচ্চো ৪১০০ টাকায়। বেশি দামে কেনায় খুচরা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
আরেক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, আজ কয়েকদিন পেঁয়াজের বাজার বেশি। বাজারে আমদানি কমে গেছে। আগে যেখানে কয়েকট্রাক পেঁয়াজ আসতো, এখন সেখানে অর্ধেক ট্রাক পেঁয়াজ আসে না। আমদানি অনুযায়ী বাজারে দাম কমে বাড়ে।
মন্তব্য করুন