থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ওপেন সিনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রতিভাবান সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফির দারুণ ফলাফল করায় বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন তাকে সংবর্ধণা ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়। সামিউল ইসলাম রাফি রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের আন্ধার মানিক গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক ও শিমলা ইয়াসমিন দম্পতির একমাত্র সন্তান।
গত মঙ্গলবার (১৮ অগাষ্ট) সন্ধ্যায় রাফি বাংলাদেশে এসে পৌছলে বিমান বন্দরেই সুইমিং ফেডারেশনর নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুছেচ্ছা জানায়। এরপরে সুইমিং ফেডারেশনের মিরপুরস্থ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সুইমিং কমপ্লেক্সে এসে আনুষ্ঠানিক ভাবে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এসময় সুইমিং ফেডারেশনের এ্যাডহক কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট লুৎফর রহমান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য লায়লা নূর বেগম, মো. দ্বিন আমিন, নার্গিস আরা এ্যনি, মো. শামসুল হুদা, মো. হারুন অর রশিদ ও সাবেক সাতারু মো. জুয়েল আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত শনিবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ওপেন সিনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ ফলাফল করেন বাংলাদেশের প্রতিভাবান ২১ বছর বয়সী এই সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফি। সোনার পদক জয়ের পাশাপাশি ওই একই দিনে ৫০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টেও অংশ নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন রাফি। ফলে প্রতিযোগিতায় একদিনেই তার ঝুলিতে যোগ হয় একটি স্বর্ণ ও একটি ব্রোঞ্জ পদক। ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে রাফি ২৪.৩৩ সেকেন্ড টাইমিং করেন। পেছনে ফেলেছেন স্বাগতিক দলের সাঁতারু গেয়ার্গচাই রুটনোসটকে। তার সময় ২৫.২৪ সেকেন্ড। ২৫.২৯ সেকেন্ডে তৃতীয় হয়েছেন আরশ সুত্থিওরাচাই। এসএ গেমসে এই ইভেন্টের সেরা টাইমিং ২৪.৪০ সেকেন্ড। রাফির এই টাইমিং প্রতিযোগিতায় রেকর্ড সৃষ্টি করে স্বর্ণপদক জিতেছে।
থাইল্যান্ডের এই প্রতিযোগিতায় ১৬টি দেশের মোট ৬০টি দল ও ক্লাব অংশ নেয়। এর মধ্যে স্বাগতিক থাইল্যান্ডেরই ছিল ৪৪টি দল/ক্লাব। এমন শক্তিশালী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আসরে রাফির এই সাফল্য বাংলাদেশের সাঁতারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশন ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতায় রাফি এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির পক্ষ থেকে রাফিকে তার অসামান্য অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানানো হয়। একই সঙ্গে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আগামী দিনগুলোতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়।
ফেডারেশনের কর্মকর্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এমন বড় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় রাফির স্বর্ণ ও ব্রোঞ্জ জয় বাংলাদেশের সাঁতারের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। ফেডারেশন ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহযোগিতা, রাফির কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও প্রতিভার সমন্বয়েই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাফি বাংলাদেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবেন—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।
মন্তব্য করুন