রাজবাড়ীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় গ্রীষ্মকালীন সবজি রাখার মিনি কোল্ড স্টোরেজ (হাইব্রীড সোলার অপারেটর) এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার বসন্তপুর কোলারহাট সংলগ্ন কৃষক জিল্লুর রহমানের বাড়ীতে স্থাপন করা এই মিনি কোল্ড স্টোরেজ এর উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী সভায় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরুপমা রায় এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জনি খান এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপি নেতা নঈম আনসারী, মঞ্জুরুল আলম দুলাল, গাজী আহসান হাবিব, আকমল হোসেন, এ মজিদ বিশ্বাস, কেএ সবুর শাহিন প্রমূখ। এছাড়া উপকারভোগী কৃষকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, এই মিনি কোল্ড স্টোরেজে গ্রীষ্মকালীন সবজি নিদ্দিষ্ঠ তাপমাত্রায় ২০ থেকে ৩০ দিন সংরক্ষণ করা যাবে। এবং উপজেলা কৃষি পূর্নবাসন বাস্তবায়ন কমিটির ওই এলাকার ৩০ জন সদস্য তাদের উৎপাদিত নিরাপদ সবজি এখানে সংরক্ষণ করতে পারবেন। যার মাধ্যমে মিটবে বাজারে সবজির চাহিদা এবং কৃষকরা পাবে ভাল দাম। এটি উদ্বোধনের মাধ্যমে জেলায় দুইটি মিনি কোল্ড স্টোরেজের উদ্বোধন করা হলো। সোলারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে এই কোল্ড স্টোরেজ।
কৃষক জিল্লুর রহমান বলেন, বসন্তপুর কৃষি প্রধান এলাকা। এখানে অনেক সবজি উৎপাদন হয়। আশা করছি এই কোল্ড স্টোরেজের মাধ্যমে আমরা উপকৃত হবো। আর এটা নির্মাণে আমাদের কোন টাকা লাগে নাই। সব কিছু সরকার করে দিয়েছে। এখন বৃষ্টির সিজন যার কারণে অনেক সবজির দাম কম থাকে। সে সমস্ত সবজি এখানে রেখে পরবর্তীতে দাম বাড়লে বিক্রি করতে পারবো। এতে আমরা কিছুটা হলেও লাভবান হবো। শুধু বৃষ্টির সময় এখন থেকে সব সময় এখানে আমরা সবজি সংরক্ষণ করবো এবং সুবিধামত সময়ে বিক্রি করবো।
রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে ৩০ জন কৃষকের একটি গ্রুপ করা হয়েছে। তাদের উৎপাদিত গ্রীষ্মকালীন সবজি এখানে একসাথে দুই থেকে তিন টন রাখতে পারবে। অনেক সময় কৃষকরা সবজি বিক্রি করতে পারে না, তখন এখানে রেখে দেবে এবং দাম বাড়লে বিক্রি করে লাভবান হবে। এভাবে তারা স্থানীয় সহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সবজি পৌছাতে পারবে। এখানে সংরক্ষণ করা প্রতিটি সবজি থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ। এবং নিদ্দিষ্ঠ তাপমাত্রায় ২০ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা যাবে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার জন্য সরকার কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করেছে। যেখানে আমাদের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত গ্রীষ্মকালীন সবজি সংরক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সময় বাজারে সরবরাহ করতে পারবে। এর মাধ্যমে তারা তাদের ক্ষতির পরিমাণ কমাতে পারবে। এখানে দুইদিকে সুবিধা, একদিকে যেমন এখানে সবজি রাখলে নষ্ট হবে না । অন্যদিকে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে সবজি সরবরাহ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ৩০ সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে। মূলত তারা এটি পরিচালনা করবে। কৃষি অফিস থেকে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং এটা সার্বক্ষনিক নজরদারিতে রাখা হবে। আর কিভাবে মূলধন গঠন করা যায় সে ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নেব । পাশাপাশি কৃষকরাও মূলধন বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারবে। ইতিমধ্যে আমাদের জেলায় দুইটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে নির্মাণ করতে আমাদের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্ঠাকে অনুরোধ করব। তবে বেসরকারি ভাবে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। কয়েকজন কৃষক মিলে মূলধন গঠন করে এরকম স্টোরেজ নির্মাণ করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন